ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীর কিশোরী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, দুই সহোদর গ্রেপ্তার

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১১:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ২০২ Time View

নরসিংদীর কিশোরী সুমনা আক্তার তিথি হত্যা মামলায় দুই সন্দেহভাজনকে ধরতে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাত্রপক্ষ সেজে অভিযান চালায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযানে গ্রেপ্তার হন দুই সহোদর রমজান আলী (লিমন) ও হাসিবুর রহমান (শান্ত)। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে জানা যায়, প্রবাসী স্বজনের পাঠানো টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।

২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচর গ্রামে সুমনা আক্তার তিথিকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন তার মা আসমা আক্তার। ঘটনার চার দিন পর, ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে রমজান ও হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ১ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী থেকে কাউছার মিয়া ও ইমন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। চার আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই নরসিংদীর পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে। তাতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।’ তদন্তের শুরুতে কোনো সূত্র না পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। পরে নিহত তিথির বাবা মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে পরিবারের আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, মোফাজ্জল হোসেনের বড় মেয়ে ও জামাতা নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই হাসিবুরের মোবাইলের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের রাতে হাসিবুর নরসিংদীতে ছিলেন এবং পরদিন ঢাকার যাত্রাবাড়ী চলে যান। এরপর রমজান বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে কিশোরগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন।

পিবিআইয়ের প্রধান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রবাসী স্বজনের পাঠানো টাকার লোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের অভিযানের সমন্বয়ে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হয়েছে।’ নরসিংদীর শেখেরচর এলাকায় ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারির এই হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোড়ন তোলে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

স্কুল ফিডিংয়ের খাবার আত্মসাত: প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

নরসিংদীর কিশোরী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, দুই সহোদর গ্রেপ্তার

আপলোড সময় : ১১:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নরসিংদীর কিশোরী সুমনা আক্তার তিথি হত্যা মামলায় দুই সন্দেহভাজনকে ধরতে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাত্রপক্ষ সেজে অভিযান চালায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযানে গ্রেপ্তার হন দুই সহোদর রমজান আলী (লিমন) ও হাসিবুর রহমান (শান্ত)। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে জানা যায়, প্রবাসী স্বজনের পাঠানো টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।

২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচর গ্রামে সুমনা আক্তার তিথিকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন তার মা আসমা আক্তার। ঘটনার চার দিন পর, ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে রমজান ও হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ১ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী থেকে কাউছার মিয়া ও ইমন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। চার আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই নরসিংদীর পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে। তাতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।’ তদন্তের শুরুতে কোনো সূত্র না পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। পরে নিহত তিথির বাবা মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে পরিবারের আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, মোফাজ্জল হোসেনের বড় মেয়ে ও জামাতা নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই হাসিবুরের মোবাইলের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের রাতে হাসিবুর নরসিংদীতে ছিলেন এবং পরদিন ঢাকার যাত্রাবাড়ী চলে যান। এরপর রমজান বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে কিশোরগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন।

পিবিআইয়ের প্রধান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রবাসী স্বজনের পাঠানো টাকার লোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের অভিযানের সমন্বয়ে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হয়েছে।’ নরসিংদীর শেখেরচর এলাকায় ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারির এই হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোড়ন তোলে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন