ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিক্রিতে বৃষ্টির বাগড়া, দামে ক্রেতা খুশি হলেও অখুশি বিক্রেতা

ঈদুল আজহার বাকি মাত্র একদিন। শেষ সময়ে এসে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। তবে সকাল থেকে রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টিতে বিক্রিতে ভাটা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। একই সঙ্গে বড় গরুতে ক্রেতাদের চাহিদা কম থাকায় এবং সব প্রকার গরুতে চাহিদা অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন বিক্রেতারা। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত লাভেই গরু বিক্রি করছেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে গরু, মহিষ ও ছাগলের দাম কমে গেছে এমন অভিযোগ করছেন বিক্রেতারা। 

আজ বুধবার (২৭ মে) সকালে ৩০০ ফিট, মুগদা, গাবতলী-কমলাপুর হাটে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা। অনেক জায়গায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে আছে। অনেক জায়গায় পানি-কাদা মিলে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে পশু ওঠানামা, হাট থেকে বের করাসহ কেনাবেচায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে। 

সাতক্ষীরা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী পরান বলেন, গাবতলীর এই হাটে ১০টি গরু নিয়ে এসেছি। এ পর্যন্ত ৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। আজ ক্রেতা অনেক কিন্তু বিক্রি করার মতো দাম বলছে না কেউ। সবাই কেন জানি খুবই কম দাম বলছে। এতো কম দামে বিক্রি সম্ভব না। 

কুরবানির গরু কিনতে আসা রদ্রু বলেন, কুরবানির মানে ত্যাগ। আমি গরু কিনতে এসেছি, দাম বিষয় না। তবে এবছর গরুর দাম খুব বেশি না বলে মনে হচ্ছে। 

আরেক ছাগল ক্রেতা ফিরোজ বলেন, গত দুইদিন ছাগল হাটে ঘুরেছি। দামে মিলাতে পারিনি। আজ দুপুর ১টায় হাটে এসেছি। এক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাশিত দামে ছাগল পেয়ে গেছি।

কুষ্টিয়া থেকে আসা বিক্রেতা আবু নাঈম বলেন, তিনশ ফিট হাটে ১৫টি গরু ও ১০টি মহিষ নিয়ে এসেছি। এ পর্যন্ত ৪টি গরু ও একটি মহিষ বিক্রি হয়েছে। আজ বাজার খুবই মন্দা। বিশেষ করে বৃষ্টি পর থেকে। গতকাল যে সাইজের গরু আড়াই লাখ টাকার ওপরে বিক্রি করেছি, আজ সে ধরনের গরু দাম ২ লাখ টাকাও বলছে না। মহিষেরও দামের একই অবস্থা। এত কম দামে কিভাবে দেব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

বিক্রিতে বৃষ্টির বাগড়া, দামে ক্রেতা খুশি হলেও অখুশি বিক্রেতা

আপলোড সময় : ০২:২৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহার বাকি মাত্র একদিন। শেষ সময়ে এসে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। তবে সকাল থেকে রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টিতে বিক্রিতে ভাটা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। একই সঙ্গে বড় গরুতে ক্রেতাদের চাহিদা কম থাকায় এবং সব প্রকার গরুতে চাহিদা অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন বিক্রেতারা। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত লাভেই গরু বিক্রি করছেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে গরু, মহিষ ও ছাগলের দাম কমে গেছে এমন অভিযোগ করছেন বিক্রেতারা। 

আজ বুধবার (২৭ মে) সকালে ৩০০ ফিট, মুগদা, গাবতলী-কমলাপুর হাটে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা। অনেক জায়গায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে আছে। অনেক জায়গায় পানি-কাদা মিলে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে পশু ওঠানামা, হাট থেকে বের করাসহ কেনাবেচায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে। 

সাতক্ষীরা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী পরান বলেন, গাবতলীর এই হাটে ১০টি গরু নিয়ে এসেছি। এ পর্যন্ত ৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। আজ ক্রেতা অনেক কিন্তু বিক্রি করার মতো দাম বলছে না কেউ। সবাই কেন জানি খুবই কম দাম বলছে। এতো কম দামে বিক্রি সম্ভব না। 

কুরবানির গরু কিনতে আসা রদ্রু বলেন, কুরবানির মানে ত্যাগ। আমি গরু কিনতে এসেছি, দাম বিষয় না। তবে এবছর গরুর দাম খুব বেশি না বলে মনে হচ্ছে। 

আরেক ছাগল ক্রেতা ফিরোজ বলেন, গত দুইদিন ছাগল হাটে ঘুরেছি। দামে মিলাতে পারিনি। আজ দুপুর ১টায় হাটে এসেছি। এক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাশিত দামে ছাগল পেয়ে গেছি।

কুষ্টিয়া থেকে আসা বিক্রেতা আবু নাঈম বলেন, তিনশ ফিট হাটে ১৫টি গরু ও ১০টি মহিষ নিয়ে এসেছি। এ পর্যন্ত ৪টি গরু ও একটি মহিষ বিক্রি হয়েছে। আজ বাজার খুবই মন্দা। বিশেষ করে বৃষ্টি পর থেকে। গতকাল যে সাইজের গরু আড়াই লাখ টাকার ওপরে বিক্রি করেছি, আজ সে ধরনের গরু দাম ২ লাখ টাকাও বলছে না। মহিষেরও দামের একই অবস্থা। এত কম দামে কিভাবে দেব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন