ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে ১ হাজার ৭ শতাধিক আফ্রিকান সেনা : ইউক্রেন

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১১:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৪৮ Time View

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে ১ হাজার ৭৫০ জনেরও বেশি সেনা। গতকাল বুধবার রাজধানী কিয়েভে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা।

সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি যে বিভিন্ন প্রতারণাপূর্ণ কৌশলের মাধ্যমে এই যুদ্ধে আফ্রিকার নাগরিকদের টেনে আনছে রাশিয়া। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৭৮০ জনেরও বেশি নাগরিক রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে।”

আফ্রিকা মহাদেশের ৩৬টি দেশ থেকে এই সেনাদের আনা হয়েছে— উল্লেখ করে সাইবিহা বলেন, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দরিদ্র আফ্রিকান যুবকদের প্রথমে রাশিয়া আনা হচ্ছে এবং তারপর সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকটি এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সাইবিহার দাবিকে সমর্থন করে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়া জানান, রুশ বাহিনীতে যেসব আফ্রিকান সেনা লড়াই করছেন— সৈনিক কিংবা যোদ্ধা হিসেবে তাদের কোনো অতীত অভিজ্ঞতা নেই। ডার্ক ওয়েবে সাধারণ চাকরির প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

“(রুশ বাহিনীতে কর্মরত) এই আফ্রিকান সেনাদের অধিকাংশেরই এর আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনীতে কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতা নেই। তাদের কোনো অতীত প্রশিক্ষণও নেই। তারা লোভে পড়ে, প্রতারণার শিকার হয় এবং শেষে তাদের সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়”, সংবাদ সম্মেলনে বলেন আবলাকাওয়া।

আফ্রিকার তরুণ-যুবকদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ঘানা এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জোট আফ্রিকান ইউনিয়ন কাজ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিন ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করা এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই অভিযান এখনও চলছে।

সূত্র : রয়টার্স

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে ১ হাজার ৭ শতাধিক আফ্রিকান সেনা : ইউক্রেন

আপলোড সময় : ১১:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে ১ হাজার ৭৫০ জনেরও বেশি সেনা। গতকাল বুধবার রাজধানী কিয়েভে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা।

সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি যে বিভিন্ন প্রতারণাপূর্ণ কৌশলের মাধ্যমে এই যুদ্ধে আফ্রিকার নাগরিকদের টেনে আনছে রাশিয়া। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৭৮০ জনেরও বেশি নাগরিক রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে।”

আফ্রিকা মহাদেশের ৩৬টি দেশ থেকে এই সেনাদের আনা হয়েছে— উল্লেখ করে সাইবিহা বলেন, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দরিদ্র আফ্রিকান যুবকদের প্রথমে রাশিয়া আনা হচ্ছে এবং তারপর সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকটি এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সাইবিহার দাবিকে সমর্থন করে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়া জানান, রুশ বাহিনীতে যেসব আফ্রিকান সেনা লড়াই করছেন— সৈনিক কিংবা যোদ্ধা হিসেবে তাদের কোনো অতীত অভিজ্ঞতা নেই। ডার্ক ওয়েবে সাধারণ চাকরির প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

“(রুশ বাহিনীতে কর্মরত) এই আফ্রিকান সেনাদের অধিকাংশেরই এর আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনীতে কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতা নেই। তাদের কোনো অতীত প্রশিক্ষণও নেই। তারা লোভে পড়ে, প্রতারণার শিকার হয় এবং শেষে তাদের সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়”, সংবাদ সম্মেলনে বলেন আবলাকাওয়া।

আফ্রিকার তরুণ-যুবকদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ঘানা এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জোট আফ্রিকান ইউনিয়ন কাজ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিন ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করা এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই অভিযান এখনও চলছে।

সূত্র : রয়টার্স

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন