ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্টোবর মাসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৯:০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২১৭ Time View

অক্টোবর মাসে নিত্যপণ্যের দাম — নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবর মাসেও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সদ্যসমাপ্ত অক্টোবর মাসে ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম। অন্যদিকে, শাকসবজি ও সোনা-রুপার দাম কিছুটা কমেছে।

ভোক্তা সংগঠন কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে মাছের দাম বেড়েছে গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরার দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এ ছাড়া, জ্বালানি তেলের দাম ৬ দশমিক ২০ শতাংশ, চিনির দাম ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ভোজ্যতেল ও ডালডার দাম ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে। সিএফের পর্যালোচনা অনুযায়ী, চালের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং আটা-ময়দার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। ডিমের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

মাংসের দাম ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং চায়ের দাম ০ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, সাত ধরনের পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এগুলো হলো লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ-টুথপেস্ট, চানাচুর-বিস্কুট, ১১টি ব্র্যান্ডের নিত্যব্যবহার্য ওষুধ এবং খাতা-কলম। শাকসবজির দাম কমেছে ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম কমেছে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

সিএফের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় উৎপাদন এলাকায় এসব পণ্যের দাম অনেক কমেছে। যশোর, বগুড়া ও রংপুরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৬ থেকে ১২ টাকা, মূলা ৬ থেকে ৮ টাকা, লাউ ৮ থেকে ১০ টাকা এবং কলার হালি ৫ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অথচ একই পণ্য ঢাকার বাজারে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা এবং কাঁচকলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংগঠনটির হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। অক্টোবরে আরও ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে দুই মাসে মোট মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সিএফ মনে করে, এভাবে পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে। সংগঠনটি দাবি করেছে, শুধু বেতন-ভাতা বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। বাড়িভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার অন্যান্য ব্যয়ও মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।

এছাড়া, অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ভোক্তা সংগঠনটির পক্ষ থেকে গ্রাম পর্যায়ে কৃষিপণ্যের উৎপাদন এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার তদারকি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মীনা বাজার ও স্বপ্ন সুপার শপ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সিএফ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

অক্টোবর মাসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ

আপলোড সময় : ০৯:০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

অক্টোবর মাসে নিত্যপণ্যের দাম — নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবর মাসেও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সদ্যসমাপ্ত অক্টোবর মাসে ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম। অন্যদিকে, শাকসবজি ও সোনা-রুপার দাম কিছুটা কমেছে।

ভোক্তা সংগঠন কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে মাছের দাম বেড়েছে গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরার দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এ ছাড়া, জ্বালানি তেলের দাম ৬ দশমিক ২০ শতাংশ, চিনির দাম ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ভোজ্যতেল ও ডালডার দাম ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে। সিএফের পর্যালোচনা অনুযায়ী, চালের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং আটা-ময়দার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। ডিমের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

মাংসের দাম ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং চায়ের দাম ০ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, সাত ধরনের পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এগুলো হলো লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ-টুথপেস্ট, চানাচুর-বিস্কুট, ১১টি ব্র্যান্ডের নিত্যব্যবহার্য ওষুধ এবং খাতা-কলম। শাকসবজির দাম কমেছে ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম কমেছে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

সিএফের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় উৎপাদন এলাকায় এসব পণ্যের দাম অনেক কমেছে। যশোর, বগুড়া ও রংপুরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৬ থেকে ১২ টাকা, মূলা ৬ থেকে ৮ টাকা, লাউ ৮ থেকে ১০ টাকা এবং কলার হালি ৫ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অথচ একই পণ্য ঢাকার বাজারে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা এবং কাঁচকলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংগঠনটির হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। অক্টোবরে আরও ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে দুই মাসে মোট মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সিএফ মনে করে, এভাবে পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে। সংগঠনটি দাবি করেছে, শুধু বেতন-ভাতা বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। বাড়িভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার অন্যান্য ব্যয়ও মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।

এছাড়া, অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ভোক্তা সংগঠনটির পক্ষ থেকে গ্রাম পর্যায়ে কৃষিপণ্যের উৎপাদন এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার তদারকি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মীনা বাজার ও স্বপ্ন সুপার শপ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সিএফ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন