ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিডিপির হিসাব নিয়ে সরকারের তিনটি সংস্কার উদ্যোগ

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৭:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২০৫ Time View

জিডিপির হিসাব নিয়ে সরকারের — বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে নিরূপিত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবের মধ্যে গুরুতর গরমিল ও তথ্যের অসংগতি শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষণায় অতীতের জিডিপি নিরূপণের পদ্ধতিতে বড় ধরনের ত্রুটি উঠে এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, পরিসংখ্যানকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই তথ্য বিকৃতি ও অসংগতি দূর করতে সরকার তিনটি মৌলিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এবারের পরিসংখ্যান দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’ বলে জানা যায়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কোনো সরকার যদি তথ্য নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজিতে যায়, তবে তা নিজের সঙ্গেই প্রতারণা করার এবং নিজেকে নিজে বোকা বানানোর শামিল। যে তথ্যের ওপর জনগণের আস্থা থাকে না, সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি সরকারের ব্যালান্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তথ্য। যে সরকারের হাতে কিংবা যে গবেষকের কাছে সঠিক তথ্য থাকবে না, তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের ভুলভ্রান্তি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্য পূর্ববর্তী সরকারের দোষ-ত্রুটি খোঁজা নয়, বরং সমস্যার গভীরে না পৌঁছালে সঠিক সমাধান সম্ভব নয়।

সভায় জানানো হয়, তথ্যের অসংগতি ও মাঠপর্যায়ে পরিসংখ্যান সংগ্রহের অনিয়ম দূর করতে সরকার তিনটি মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জিও-ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতি ও জিডিপির হিসাব বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে নিরূপণ করা হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা সত্যিই বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে ভৌগোলিক অবস্থানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ভুয়া সুবিধাভোগী শনাক্ত করে প্রকৃত নারী ও দরিদ্র মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে বৈজ্ঞানিক প্রক্সি-মিনস টেস্ট পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় সম্পদের অপচয় বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয়ত, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং জনসংখ্যা নিবন্ধন ব্যবস্থাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে সমন্বিত ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিগত দিনের জিডিপির যে হিসাব নিরূপণ করা হয়েছিল, তা সত্যিকার অর্থে কোনো বাস্তব ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় ছিল। বিআইডিএস ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষণায় অতীতের জিডিপি নিরূপণে বড় ধরনের গলদ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, অতীতের শাসনামলে তথ্যের ওপর মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। জনগণের সেই বিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশনায় এই ফরেনসিক অডিট ও পর্যালোচনা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জোনায়েদ সাকি জানান, তথ্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও কারসাজি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) কম্পিউটার-সহায়তাপ্রাপ্ত পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। অনুমোদনের জন্য আর ফাইল মন্ত্রীর স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রাখা হচ্ছে না।

এ ছাড়া তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষায়িত তথ্য গবেষণাগার চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা সরাসরি তথ্য নিয়ে স্বাধীনভাবে বিশ্লেষণ করতে পারছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে এবং মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানকে নগ্নভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

জিডিপির হিসাব নিয়ে সরকারের তিনটি সংস্কার উদ্যোগ

আপলোড সময় : ০৭:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জিডিপির হিসাব নিয়ে সরকারের — বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে নিরূপিত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবের মধ্যে গুরুতর গরমিল ও তথ্যের অসংগতি শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষণায় অতীতের জিডিপি নিরূপণের পদ্ধতিতে বড় ধরনের ত্রুটি উঠে এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, পরিসংখ্যানকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই তথ্য বিকৃতি ও অসংগতি দূর করতে সরকার তিনটি মৌলিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এবারের পরিসংখ্যান দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’ বলে জানা যায়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কোনো সরকার যদি তথ্য নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজিতে যায়, তবে তা নিজের সঙ্গেই প্রতারণা করার এবং নিজেকে নিজে বোকা বানানোর শামিল। যে তথ্যের ওপর জনগণের আস্থা থাকে না, সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি সরকারের ব্যালান্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তথ্য। যে সরকারের হাতে কিংবা যে গবেষকের কাছে সঠিক তথ্য থাকবে না, তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের ভুলভ্রান্তি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্য পূর্ববর্তী সরকারের দোষ-ত্রুটি খোঁজা নয়, বরং সমস্যার গভীরে না পৌঁছালে সঠিক সমাধান সম্ভব নয়।

সভায় জানানো হয়, তথ্যের অসংগতি ও মাঠপর্যায়ে পরিসংখ্যান সংগ্রহের অনিয়ম দূর করতে সরকার তিনটি মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জিও-ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতি ও জিডিপির হিসাব বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে নিরূপণ করা হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা সত্যিই বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে ভৌগোলিক অবস্থানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ভুয়া সুবিধাভোগী শনাক্ত করে প্রকৃত নারী ও দরিদ্র মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে বৈজ্ঞানিক প্রক্সি-মিনস টেস্ট পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় সম্পদের অপচয় বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয়ত, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং জনসংখ্যা নিবন্ধন ব্যবস্থাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে সমন্বিত ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিগত দিনের জিডিপির যে হিসাব নিরূপণ করা হয়েছিল, তা সত্যিকার অর্থে কোনো বাস্তব ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় ছিল। বিআইডিএস ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষণায় অতীতের জিডিপি নিরূপণে বড় ধরনের গলদ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, অতীতের শাসনামলে তথ্যের ওপর মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। জনগণের সেই বিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশনায় এই ফরেনসিক অডিট ও পর্যালোচনা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জোনায়েদ সাকি জানান, তথ্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও কারসাজি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) কম্পিউটার-সহায়তাপ্রাপ্ত পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। অনুমোদনের জন্য আর ফাইল মন্ত্রীর স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রাখা হচ্ছে না।

এ ছাড়া তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষায়িত তথ্য গবেষণাগার চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা সরাসরি তথ্য নিয়ে স্বাধীনভাবে বিশ্লেষণ করতে পারছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে এবং মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানকে নগ্নভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন