ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনমন্ত্রী: শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে সরকার

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:১৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২০৯ Time View

আইনমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে — রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপে’ বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। একই অনুষ্ঠানে আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে বলেও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধেও কথা বলতে হবে।

তিনি একাত্তরের শহিদ জাফর, জয়নায়াল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রাফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডাক্তার মিলনের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে জানান। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগের সততা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, দেশের সমাজ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ বর্তমানে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষ নিহত ও পঙ্গুত্ববরণ করলেও তাঁদের বিষয়ে ওই অংশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বিচার বিভাগের সততা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে, তা শুধু আর্থিক দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিচার বিভাগের সংকটের অন্যতম দিক হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি, যা দেশের বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের জন্য বেশি ক্ষতিকর হয়েছে।

বিচারকদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাতে গোনা কয়েকজন বিচারক এ ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত থাকতে পারেন। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সরকার ও প্রধান বিচারপতি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিচারকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন, সততা ও পরিশ্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এছাড়া, আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

আইনমন্ত্রী: শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে সরকার

আপলোড সময় : ১২:১৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আইনমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে — রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপে’ বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। একই অনুষ্ঠানে আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে বলেও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধেও কথা বলতে হবে।

তিনি একাত্তরের শহিদ জাফর, জয়নায়াল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রাফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডাক্তার মিলনের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে জানান। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগের সততা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, দেশের সমাজ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ বর্তমানে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষ নিহত ও পঙ্গুত্ববরণ করলেও তাঁদের বিষয়ে ওই অংশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বিচার বিভাগের সততা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে, তা শুধু আর্থিক দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিচার বিভাগের সংকটের অন্যতম দিক হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি, যা দেশের বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের জন্য বেশি ক্ষতিকর হয়েছে।

বিচারকদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাতে গোনা কয়েকজন বিচারক এ ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত থাকতে পারেন। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সরকার ও প্রধান বিচারপতি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিচারকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন, সততা ও পরিশ্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এছাড়া, আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন