ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতায় গেলে সামরিক পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবেন, ঘোষণা পাহলভির

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০২:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৪৮ Time View

ক্ষমতায় গেলে ইরানের সামরিক খাতে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির শেষ রাজা (শাহ) মোহম্মদ রেজা শাহ পাহলভির জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে শত্রুতার অবসান এবং ইরানকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় ইরানের ক্রাউন প্রিন্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমাদের বন্ধুরা, ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের দাসত্বে থাকতে থাকতে আপনাদের মনে হয়তো ধারণা হয়েছে যে ইরান মানেই সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ এবং দারিদ্র; কিন্তু এটা ইরানের প্রকৃত চেহারা নয়। সত্যিকারের ইরান হলো একটি সুন্দর, শান্তিপ্রিয় এবং সমৃদ্ধ ইরান, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে ছিল।”

“এবং যেদিন থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবে, ছাই-ভস্ম থেকে সেই পুরোনো প্রকৃত ইরান ফের জেগে ওঠা শুরু করবে। সেই নতুন ইরানে সামরিক খাতে পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করা হবে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে এবং সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং ইসলামি কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করবে।

“মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরান পরিচিতি পাবে একটি স্থিতিশীল ও মিত্রভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে, সেই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতেই ইরান দায়িত্বশীল অংশীদার হবে।”

“আর কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে, ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ইরান, ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বকে মুক্ত করতে ইরান সবসময় আব্রাহাম চুক্তি ও সাইরাস চুক্তি বিস্তারের পক্ষে থাকবে।”

“ইরান আন্তর্জাতিক মান অনুসারে চলবে। একটি মুক্ত ইরান হবে শান্তি, উন্নতি এবং অংশীদারিত্বের প্রতীক।”

ইরানের শেষ রাজা বা শাহ ছিলেন মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহালভি। ১৯৭৯ সালে ফেব্রুয়ারিতে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে রাজধানী দখল করেন ইসলাপন্থি সশস্ত্র যোদ্ধারা, সম্পন্ন হয় ইসলামি বিপ্লব। তার আগেই ১৬ জানুয়ারি দেশত্যাগ করেছিলেন মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহালভি। ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে মিসরের রাজধানী কায়রোতে নির্বাসিত অবস্থায় মারা যান তিনি।

মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি’র জ্যেষ্ঠ সন্তান রেজা পাহলভি। ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি মাসে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি; ইসলামি বিপ্লবের পর আর দেশে ফেরা হয়নি তার। বর্তমানে ওয়াশিংটনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তিনি।

মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির মৃত্যুর পর রেজা পাহালভিকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন তার পরিবারের সদস্য ও শাহপন্থিরা।

গত দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক মাত্রায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে। এই আন্দোলনের মধ্যে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন রেজা পাহলভি। সম্প্রতি কয়েকটি ভিডিওবার্তায় ইরানের জনগণকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের অনেকে তার প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অনলাইনে হুংকার দিয়ে জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ক্ষমতায় গেলে সামরিক পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবেন, ঘোষণা পাহলভির

আপলোড সময় : ০২:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষমতায় গেলে ইরানের সামরিক খাতে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির শেষ রাজা (শাহ) মোহম্মদ রেজা শাহ পাহলভির জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে শত্রুতার অবসান এবং ইরানকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় ইরানের ক্রাউন প্রিন্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমাদের বন্ধুরা, ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের দাসত্বে থাকতে থাকতে আপনাদের মনে হয়তো ধারণা হয়েছে যে ইরান মানেই সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ এবং দারিদ্র; কিন্তু এটা ইরানের প্রকৃত চেহারা নয়। সত্যিকারের ইরান হলো একটি সুন্দর, শান্তিপ্রিয় এবং সমৃদ্ধ ইরান, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে ছিল।”

“এবং যেদিন থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবে, ছাই-ভস্ম থেকে সেই পুরোনো প্রকৃত ইরান ফের জেগে ওঠা শুরু করবে। সেই নতুন ইরানে সামরিক খাতে পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করা হবে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে এবং সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং ইসলামি কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করবে।

“মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরান পরিচিতি পাবে একটি স্থিতিশীল ও মিত্রভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে, সেই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতেই ইরান দায়িত্বশীল অংশীদার হবে।”

“আর কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে, ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ইরান, ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বকে মুক্ত করতে ইরান সবসময় আব্রাহাম চুক্তি ও সাইরাস চুক্তি বিস্তারের পক্ষে থাকবে।”

“ইরান আন্তর্জাতিক মান অনুসারে চলবে। একটি মুক্ত ইরান হবে শান্তি, উন্নতি এবং অংশীদারিত্বের প্রতীক।”

ইরানের শেষ রাজা বা শাহ ছিলেন মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহালভি। ১৯৭৯ সালে ফেব্রুয়ারিতে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে রাজধানী দখল করেন ইসলাপন্থি সশস্ত্র যোদ্ধারা, সম্পন্ন হয় ইসলামি বিপ্লব। তার আগেই ১৬ জানুয়ারি দেশত্যাগ করেছিলেন মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহালভি। ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে মিসরের রাজধানী কায়রোতে নির্বাসিত অবস্থায় মারা যান তিনি।

মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি’র জ্যেষ্ঠ সন্তান রেজা পাহলভি। ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি মাসে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি; ইসলামি বিপ্লবের পর আর দেশে ফেরা হয়নি তার। বর্তমানে ওয়াশিংটনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তিনি।

মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির মৃত্যুর পর রেজা পাহালভিকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন তার পরিবারের সদস্য ও শাহপন্থিরা।

গত দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক মাত্রায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে। এই আন্দোলনের মধ্যে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন রেজা পাহলভি। সম্প্রতি কয়েকটি ভিডিওবার্তায় ইরানের জনগণকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের অনেকে তার প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন