ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ষাটের পরেও ফুটবল মাঠে প্রবীণদের উচ্ছ্বাস

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৯:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ২০২ Time View

সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রবীণদের নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। বাড়াকান্দি মধ্যপাড়া একতাবন্ধ ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই খেলায় ১৮ জন প্রবীণ অংশ নেন, যাদের মধ্যে দুটি দল গঠন করা হয়: সিলভার স্টার ফুটবল একাদশ ও প্রজাপতি ফুটবল একাদশ। ম্যাচ পরিচালনা করেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুকুল হোসেন।

মাঠে প্রবীণদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বয়সের কারণে দৌড়ের গতি কমলেও, জয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। খেলোয়াড়রা বলের পিছু ছুটতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন, আবার সতীর্থের সাহায্যে উঠে খেলায় ফিরে আসছিলেন। এই দৃশ্যগুলো যেন ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তাদের শৈশবে, যখন ফুটবল ছিল বিনোদনের প্রধান মাধ্যম।

দর্শক সায়েম বলেন, "প্রতি বছর এমন আয়োজন হওয়া উচিত। এতে মুরুব্বিদের ভালো লাগে এবং গ্রামের মানুষও একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ পায়।" আয়োজক তামিম রেজা জানান, মুরুব্বিরা ফুটবল খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তাই এই আয়োজন। তিনি বলেন, "সবাই যেন উৎসবের আনন্দ পায়, সে জন্য ড্রামসেট ও কিবোর্ডের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এমন আয়োজন করতে চাই।"

সন্ধ্যা নামার আগে খেলা শেষ হয় এবং বিজয়ী-পরাজিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, এদিন আসলে কেউ হারেনি। প্রবীণরা কয়েক ঘণ্টার জন্য বয়সকে হারিয়ে, সংসারের চিন্তা ভুলে আবারও শৈশবকে ছুঁয়ে দেখেছেন। এই দৃশ্যটি সবুজ মাঠে উপস্থিত শত শত দর্শকের কাছে এক টুকরো নির্মল আনন্দের স্মৃতি হয়ে রইল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

পটিয়ায় ৫ বছরের শিশুকে হত্যা: ১৯ বছরের তরুণীর স্বীকারোক্তি

ষাটের পরেও ফুটবল মাঠে প্রবীণদের উচ্ছ্বাস

আপলোড সময় : ০৯:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রবীণদের নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। বাড়াকান্দি মধ্যপাড়া একতাবন্ধ ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই খেলায় ১৮ জন প্রবীণ অংশ নেন, যাদের মধ্যে দুটি দল গঠন করা হয়: সিলভার স্টার ফুটবল একাদশ ও প্রজাপতি ফুটবল একাদশ। ম্যাচ পরিচালনা করেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুকুল হোসেন।

মাঠে প্রবীণদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বয়সের কারণে দৌড়ের গতি কমলেও, জয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। খেলোয়াড়রা বলের পিছু ছুটতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন, আবার সতীর্থের সাহায্যে উঠে খেলায় ফিরে আসছিলেন। এই দৃশ্যগুলো যেন ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তাদের শৈশবে, যখন ফুটবল ছিল বিনোদনের প্রধান মাধ্যম।

দর্শক সায়েম বলেন, "প্রতি বছর এমন আয়োজন হওয়া উচিত। এতে মুরুব্বিদের ভালো লাগে এবং গ্রামের মানুষও একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ পায়।" আয়োজক তামিম রেজা জানান, মুরুব্বিরা ফুটবল খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তাই এই আয়োজন। তিনি বলেন, "সবাই যেন উৎসবের আনন্দ পায়, সে জন্য ড্রামসেট ও কিবোর্ডের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এমন আয়োজন করতে চাই।"

সন্ধ্যা নামার আগে খেলা শেষ হয় এবং বিজয়ী-পরাজিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, এদিন আসলে কেউ হারেনি। প্রবীণরা কয়েক ঘণ্টার জন্য বয়সকে হারিয়ে, সংসারের চিন্তা ভুলে আবারও শৈশবকে ছুঁয়ে দেখেছেন। এই দৃশ্যটি সবুজ মাঠে উপস্থিত শত শত দর্শকের কাছে এক টুকরো নির্মল আনন্দের স্মৃতি হয়ে রইল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন