রাজশাহীর সংঘর্ষ নিয়ে রাশেদ খানের কড়া মন্তব্য, জামায়াত-শিবিরকে ‘লাগাম টানার’ আহ্বান
ঢাকা: রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছাত্রলীগের ভয়ে যারা একসময় গোপনে ছিল, তারা কীভাবে এখন ছাত্রদলকে পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ছাত্রদল রাজপথে সক্রিয় না থাকলে ছাত্রলীগ আবার জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ করে দিতে পারে।
রাশেদ খান তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ছাত্রলীগের ভয়ে যারা একসময় গোপনে ছিল কিংবা ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচে ছিল, তারা কীভাবে ছাত্রদলকে পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করতে চায়? ছাত্রদল রাজপথে না থাকলে তো ছাত্রলীগ জামায়াত-শিবিরকে পিটিয়ে আবারও গুপ্ত বানিয়ে দেবে। এই বাস্তবতা কেন এরা বুঝতে চায় না?’
এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাঁচজন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে; এর মধ্যে ছাত্রশিবিরের তিনজন ও ছাত্রদলের দুজন রয়েছেন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যও ভিন্ন। ছাত্রশিবিরের দাবি, কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য তাদের হেল্পডেস্ক চলছিল। সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে ব্যানার ছিঁড়ে হামলা চালান। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দুজনকে আহত করেছেন।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশে মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাজশাহী থেকে বিতাড়নের হুমকি দেন বলে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটেই রাশেদ খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, বিরোধী দল হয়েই যদি কোনো রাজনৈতিক শক্তি প্রতিপক্ষকে হামলা করে এলাকা ছাড়া করতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে তাদের আচরণ কী হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।
জামায়াত-শিবিরের সমালোচনা করে রাশেদ খান আরও বলেন, ‘বিরোধী দল হয়েই জামায়াত-শিবির মজলুম থেকে জালিম হয়ে গেছে।’ তাঁর ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে জামায়াতের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের ‘লাগাম টেনে ধরার’ আহ্বান জানান। তাঁর এসব মন্তব্য বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে।
রাজশাহীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবও শিবির সভাপতির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে পদ্মা সরকারি কলেজের একটি ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ এখন দুই সংগঠনের রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রূপ নিয়েছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই পক্ষই নিজেদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে। তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং দায় কার—এ বিষয়ে পক্ষগুলোর বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
অনলাইন ডেক্স 























