ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে তেহরানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শনিবার তেহরের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ রাখা হবে এবং সোমবার বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সরকার অনুমান করছে, এই শোকযাত্রায় প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন।
তবে, এএফপি জানাচ্ছে, খামেনির শেষকৃত্যকে ঘিরে তেহরানের রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম। অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভিড় এড়াতে শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ও ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
অনেকে এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান সরকারের সমর্থকদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংকটের সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ইরানের গৃহিণী এফাত বলেন, "অনুষ্ঠান ঘিরে অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।" অন্যদিকে, তেহরানের বাসিন্দা আজাদেহ জানান, "অনেক বাসিন্দা ভিড় এড়াতে শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।"
অনেকে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাঈদ নামে একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী জানান, "তেহরান থেকে বের হওয়ার রাস্তাগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।" তিনি আরও বলেন, "এটি বেশ অস্বস্তিকর।" অনুষ্ঠানের আর্থিক ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে খামেনিকে দাফন করা হবে। ইরানের স্পিকার বাঘের গালিবাফ এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে প্রতিশোধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে জনগণকে বিশাল জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেক্স 





















