বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করায় উপজেলা প্রশাসন একটি ব্রিজ ভেঙে দিয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) ইউএনও লিখন বনিক ও উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজটির দুই পাশ ভেঙে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। ঠিকাদার সোহেল মোল্লা দাবি করেন, তিনি সেতুর মাঝখানে নয়, দুই পাশে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এটি ১৫টি পরিবারের ধান পরিবহনের জন্য নির্মিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ওমর সানি জানান, ঠিকাদার সোহেল মোল্লা দেড় লাখ টাকা খরচ করে ব্রিজটি নির্মাণ করেন। তবে সরকারি নকশা অনুযায়ী ঢালাই ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয় সাড়ে ৩ ইঞ্চি।
তিনি আরও জানান, ঢালাইয়ের সময় অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার পাঁচটি রড এনে ব্যবহার করেন। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে পাঁচ বস্তা সিমেন্ট কেনা হয় এবং ১৩ এপ্রিল ব্রিজের উত্তর পাশে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের আংশিক ভাঙা কাজ করেন এবং বাঁশের কঞ্চি পাওয়া যায়।
ঠিকাদার সোহেল মোল্লা বলেন, ‘ব্রিজটি এলাকার উপকারের জন্য নির্মাণ করেছি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ কবে টাকা দেবে তা জানি না। ঢালাইয়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করেছি, কিন্তু মূল ব্রিজের অংশে বাঁশের কঞ্চি নেই।’ উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা সত্যতা পেয়েছেন, তবে ব্রিজের মাঝখানে বাঁশের কঞ্চি পাওয়া যায়নি। ইউএনও লিখন বনিক বলেন, ঠিকাদারকে নতুন করে রড দিয়ে ঢালাই দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন ডেক্স 















