ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে জুলাইযোদ্ধা খুন

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ২১১ Time View

কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন ঝাউবাগানের ভেতরের কবিতা চত্বর এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

খোরশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুলুলঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তবে তার কোনো পদপদবি ছিল না। ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নিহত হওয়ার ঘটনার পর তারিন নামে এক তরুণীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ছুরিকাঘাতের ঘটনার সময় তিনি খোরশেদের সঙ্গে ছিলেন। তারিনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য নিহত ব্যক্তির লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহত খোরশেদের ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খোরশেদের সঙ্গে থাকা এক নারীকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে কবিতা চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে দুই যুবক খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। খোরশেদের পেট, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করেন ওই যুবকেরা।

ঘটনার সময় খোরশেদের সঙ্গে থাকা তারিন জানান, কবিতা চত্বরে অবস্থানকালে হঠাৎ দুজন যুবক এসে খোরশেদকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। এরপর বলেন, ‘কী আছে, দিয়ে দাও।’ একপর্যায়ে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এদিকে খোরশেদ আলম নিহত হওয়ার খবর পেয়ে দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শহর ঘুরে পুরোনো শহীদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। সেখানে জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ছাত্রদলকর্মী খোরশেদ আলমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সৈকতসহ শহরজুড়ে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেলেও পুলিশ নির্বিকার।’

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, ‘কবিতা চত্বরসহ সৈকত এলাকায় এখন লাখো পর্যটকের সমাগম চলছে। অথচ কবিতা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল নেই। খোরশেদ হত্যাকাণ্ড শান্ত পর্যটন শহরের জন্য অশনিসংকেত।’

সমাবেশে পুলিশের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলে জেলা এনসিপির মুখপাত্র ও দলের জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খালেদ বিন সাঈদ বলেন, ‘হয় দ্রুত খোরশেদ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করুন, নয়তো বদলি হয়ে চলে যান। কক্সবাজারে আপনাদের প্রয়োজন নেই।’ 

কক্সবাজার পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ারও সমাবেশে উপস্থিত হয়ে খোরশেদ আলম হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

কক্সবাজারে জুলাইযোদ্ধা খুন

আপলোড সময় : ১২:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন ঝাউবাগানের ভেতরের কবিতা চত্বর এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

খোরশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুলুলঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তবে তার কোনো পদপদবি ছিল না। ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নিহত হওয়ার ঘটনার পর তারিন নামে এক তরুণীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ছুরিকাঘাতের ঘটনার সময় তিনি খোরশেদের সঙ্গে ছিলেন। তারিনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য নিহত ব্যক্তির লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহত খোরশেদের ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খোরশেদের সঙ্গে থাকা এক নারীকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে কবিতা চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে দুই যুবক খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। খোরশেদের পেট, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করেন ওই যুবকেরা।

ঘটনার সময় খোরশেদের সঙ্গে থাকা তারিন জানান, কবিতা চত্বরে অবস্থানকালে হঠাৎ দুজন যুবক এসে খোরশেদকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। এরপর বলেন, ‘কী আছে, দিয়ে দাও।’ একপর্যায়ে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এদিকে খোরশেদ আলম নিহত হওয়ার খবর পেয়ে দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শহর ঘুরে পুরোনো শহীদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। সেখানে জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ছাত্রদলকর্মী খোরশেদ আলমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সৈকতসহ শহরজুড়ে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেলেও পুলিশ নির্বিকার।’

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, ‘কবিতা চত্বরসহ সৈকত এলাকায় এখন লাখো পর্যটকের সমাগম চলছে। অথচ কবিতা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল নেই। খোরশেদ হত্যাকাণ্ড শান্ত পর্যটন শহরের জন্য অশনিসংকেত।’

সমাবেশে পুলিশের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলে জেলা এনসিপির মুখপাত্র ও দলের জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খালেদ বিন সাঈদ বলেন, ‘হয় দ্রুত খোরশেদ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করুন, নয়তো বদলি হয়ে চলে যান। কক্সবাজারে আপনাদের প্রয়োজন নেই।’ 

কক্সবাজার পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ারও সমাবেশে উপস্থিত হয়ে খোরশেদ আলম হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন