যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর লেবানন ও ইসরায়েল একটি সমঝোতার কাঠামোয় পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে এ ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি এই অগ্রগতিকে ‘শুরুরও শুরু’ বলে উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি।
রুবিও জানান, এই কাঠামোগত সমঝোতাকে কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থায় রূপ দিতে লেবানন ও ইসরায়েল- উভয় পক্ষেরই এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সমঝোতার আওতায় দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সীমিত পরিসরে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে ইসরায়েল। এরপর ওই এলাকাগুলোতে মোতায়েন হবে লেবাননের সেনাবাহিনী।
পাইলট প্রকল্পের একটি এলাকা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে, স্লুকি নদীর পশ্চিমে এবং লিতানি নদীর দক্ষিণে অবস্থিত। দ্বিতীয় এলাকা লিতানি নদীর উত্তরে, যেখানে নতুন ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতর ও বাইরের উভয় অংশই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমঝোতায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক সেনা প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ নেই। বরং নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। পরবর্তীকালে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আরও বড় পরিসরে সেনা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হুমকির জবাব দেওয়ার স্বাধীনতা ইসরায়েলের থাকবে। পাশাপাশি, হিজবুল্লাহ কার্যকর সামরিক শক্তি হিসেবে থাকলে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে ইসরায়েল সরে যাবে না।
সমঝোতার কাঠামোয় উভয় পক্ষের নিজ নিজ ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সমঝোতা ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় টানা চার দিন ধরে চলা আলোচনার ফল। এর অংশ হিসেবে দুটি পাইলট প্রকল্পে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ছোট ছোট এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাবে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক কাঠামোগত চুক্তিটি ইরানের জন্য একটি বড় ধাক্কা। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রেডিওর বরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ভাষণের অংশে নেতানিয়াহু জানান, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষ্য, যতক্ষণ পর্যন্ত লেবানন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা মোতায়েন থাকবে।
অনলাইন ডেক্স 














