ইরানে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০২:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ২৮২ Time View

গত এক মাসের যুদ্ধে ইরানের সরকার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার ব্যাপারে তিনি ‘অনেকখানি নিশ্চিত’।

গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে ভ্রমণের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ইরানের সরকার পরিবর্তন করে ফেলতে পেরেছি। আপনারা যদি খেয়াল করেন, তাহলে লক্ষ্য করবেন যে ইরানের আগের সরকার ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তারা সবাই মারা গেছে।”

“এখন আমরা (সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে) আলোচনা করছি। এমন কিছু মানুষের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি যাদের সঙ্গে আগে কেউ কাজ করেনি। তারা সম্পূর্ন ভিন্ন একদল মানুষ। তাই আমি একে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন হিসেবেই বিবেচনা করব।”

“আর সত্যি বলতে ইরানের এই নতুন লোকজন খুবই যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে। আমি বেশ নিশ্চিত যে আমরা একটা সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, মোজতবা নিজে হন আহত।

পরবর্তী কয়েক দিনে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইরান রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌর-সহ ২০ জনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লাারিজানি-সহ নিহত হন ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর আহত থাকা অবস্থাতেই তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে ইরান। মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে একাধিক ইরানি সূত্রে জানা গেছে, মোজতবা পায়ে আঘাত পেয়েছেন এবং সেই আঘাত প্রাণঘাতী নয়।

যুদ্ধের দ্বাদশ দিনে, অর্থাৎ ১২ মার্চ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে রুশ সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে চেপে মস্কোতে যান মোজতবা খামেনি। বর্তমানে মস্কোর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমেছে পাকিস্তান। চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি সংলাপ শুরু হওয়ার শিডিউল রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

নারায়ণগঞ্জে সওজের দখলকৃত অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ: নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম

ইরানে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

আপলোড সময় : ০২:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

গত এক মাসের যুদ্ধে ইরানের সরকার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার ব্যাপারে তিনি ‘অনেকখানি নিশ্চিত’।

গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে ভ্রমণের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ইরানের সরকার পরিবর্তন করে ফেলতে পেরেছি। আপনারা যদি খেয়াল করেন, তাহলে লক্ষ্য করবেন যে ইরানের আগের সরকার ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তারা সবাই মারা গেছে।”

“এখন আমরা (সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে) আলোচনা করছি। এমন কিছু মানুষের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি যাদের সঙ্গে আগে কেউ কাজ করেনি। তারা সম্পূর্ন ভিন্ন একদল মানুষ। তাই আমি একে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন হিসেবেই বিবেচনা করব।”

“আর সত্যি বলতে ইরানের এই নতুন লোকজন খুবই যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে। আমি বেশ নিশ্চিত যে আমরা একটা সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, মোজতবা নিজে হন আহত।

পরবর্তী কয়েক দিনে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইরান রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌর-সহ ২০ জনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লাারিজানি-সহ নিহত হন ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর আহত থাকা অবস্থাতেই তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে ইরান। মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে একাধিক ইরানি সূত্রে জানা গেছে, মোজতবা পায়ে আঘাত পেয়েছেন এবং সেই আঘাত প্রাণঘাতী নয়।

যুদ্ধের দ্বাদশ দিনে, অর্থাৎ ১২ মার্চ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে রুশ সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে চেপে মস্কোতে যান মোজতবা খামেনি। বর্তমানে মস্কোর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমেছে পাকিস্তান। চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি সংলাপ শুরু হওয়ার শিডিউল রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন