ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে ঈদ ও মেলা ঘিরে নৌপথে ডাকাত আতঙ্ক

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৩:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ২১৯ Time View

চাঁদপুরে ঈদ ও লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মতলব উত্তর উপজেলার কালীপুর-চরকালীপুর ট্রলারঘাটসহ অন্যান্য ঘাটে ডাকাত আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জানা যায়, এ এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই ঈদুল ফিতর ও শাহ্ সোলাইমান (র.) ওরফে লেংটার মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে মানুষের জনসমাগম ও যাতায়াত ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। তাই দুটি উৎসব ঘিরে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জনমনে।

স্থানীরা জানান, কালীপুর-চর কালীপুর ট্রলারে করে পারাপার হতে সময় লাগে ১৫-২০ মিনিট। ঈদ ও লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে ঈদের এই সময়ে ট্রলারে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। আর এতটুকু দূরত্বের মধ্যে প্রায় প্রতি বছরই ডাকাতির ঘটনা ঘটে থাকে। এবারও ডাকাতির আশঙ্কা করছে স্থানীয় লোকজন ও নিয়মিত পারাপারের অনেক যাত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সময় কম লাগার কারণে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার অসংখ্য মানুষ ঢাকা যাতায়াতের জন্য নৌপথে ট্রলারযোগে এ পথে ধনাগোদা নদী পার হয়ে কালীপুর-চর কালীপুরা দিয়ে যাতায়াত করে। প্রতিদিন এই রুটে শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলারের মাধ্যমে কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। সাধারণত বছরের অন্যান্য সময় বিশেষ করে বৃহস্পতি, শুক্র, শনিবার দিনে রাতে ৩-৪ হাজার যাত্রী এ পথে পারাপার হয় থাকে। ঈদে যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় দৈনিক ৭-৮ হাজারের মতো। কিন্তু এবার ঈদ ও স্থানীয় আলোচিত লেংটার মেলা একসঙ্গে হওয়ায় দৈনিক ১০-১২ হাজার যাত্রীর পারাপার হতে পারে বলে আশা করছে স্থানীয় লোকজন, ব্যবসায়ী ও নৌঘাট সংশ্লিষ্টরা। আর এই সময়টাতে ছোট্ট নদীতে ডাকাতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এ সময়ে
ধনাগোদা নদীতে অতিরিক্ত টহলের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
আলী হোসেন নামে মতলব উত্তর উপজেলার একলাশপুর এলাকার এক যাত্রী জানান, ‘আমি মতলব উত্তর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই পথে নিয়মিত আসা-যাওয়া করি। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরতে একটু বেশি রাতই হয়ে যায়। আমাদের ট্রলার যখন মধ্যনদীতে, তখন ট্রলারটিকে কেন্দ্র করে দুই দিক থেকে কয়েকটি লেজার লাইট মেরেছিল। আমিসহ আমরা ১১ জন যাত্রী ছিলাম ঐ ট্রলারে। সবাই ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি।’
মতলব উত্তর উপজেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি মাহবুব আলম লাভলু জানান, ‘এই পথে কয়েক বছর আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় আমার কাছে যা ছিল ডাকাতরা আমার সব লুটে নেয়। ঐ সময় ওদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও চরম খারাপ আচরণের কারণে আমি খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।’
নাম প্রকাশ না করা শর্তে ট্রলারের কয়েক জন চালক জানায়, ডাকাতরা যখন আক্রমণ করে, তারা দুই দিক থেকেই আক্রমণ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাত্রীদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। কেউ মালামাল দিতে না চাইলে মারধর করে।
এ বিষয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম বলেন, ধনাগোদা নদীতে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঈদ ও লেংটার মেলাকে সামনে রেখে নদীপথে টহল জোরদার করা হবে। 
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঈদ ও স্থানীয় বৃহৎ লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের যাতায়াত অনেক বাড়বে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী

মতলব উত্তরে ঈদ ও মেলা ঘিরে নৌপথে ডাকাত আতঙ্ক

আপলোড সময় : ০৩:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুরে ঈদ ও লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মতলব উত্তর উপজেলার কালীপুর-চরকালীপুর ট্রলারঘাটসহ অন্যান্য ঘাটে ডাকাত আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জানা যায়, এ এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই ঈদুল ফিতর ও শাহ্ সোলাইমান (র.) ওরফে লেংটার মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে মানুষের জনসমাগম ও যাতায়াত ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। তাই দুটি উৎসব ঘিরে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জনমনে।

স্থানীরা জানান, কালীপুর-চর কালীপুর ট্রলারে করে পারাপার হতে সময় লাগে ১৫-২০ মিনিট। ঈদ ও লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে ঈদের এই সময়ে ট্রলারে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। আর এতটুকু দূরত্বের মধ্যে প্রায় প্রতি বছরই ডাকাতির ঘটনা ঘটে থাকে। এবারও ডাকাতির আশঙ্কা করছে স্থানীয় লোকজন ও নিয়মিত পারাপারের অনেক যাত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সময় কম লাগার কারণে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার অসংখ্য মানুষ ঢাকা যাতায়াতের জন্য নৌপথে ট্রলারযোগে এ পথে ধনাগোদা নদী পার হয়ে কালীপুর-চর কালীপুরা দিয়ে যাতায়াত করে। প্রতিদিন এই রুটে শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলারের মাধ্যমে কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। সাধারণত বছরের অন্যান্য সময় বিশেষ করে বৃহস্পতি, শুক্র, শনিবার দিনে রাতে ৩-৪ হাজার যাত্রী এ পথে পারাপার হয় থাকে। ঈদে যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় দৈনিক ৭-৮ হাজারের মতো। কিন্তু এবার ঈদ ও স্থানীয় আলোচিত লেংটার মেলা একসঙ্গে হওয়ায় দৈনিক ১০-১২ হাজার যাত্রীর পারাপার হতে পারে বলে আশা করছে স্থানীয় লোকজন, ব্যবসায়ী ও নৌঘাট সংশ্লিষ্টরা। আর এই সময়টাতে ছোট্ট নদীতে ডাকাতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এ সময়ে
ধনাগোদা নদীতে অতিরিক্ত টহলের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
আলী হোসেন নামে মতলব উত্তর উপজেলার একলাশপুর এলাকার এক যাত্রী জানান, ‘আমি মতলব উত্তর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই পথে নিয়মিত আসা-যাওয়া করি। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরতে একটু বেশি রাতই হয়ে যায়। আমাদের ট্রলার যখন মধ্যনদীতে, তখন ট্রলারটিকে কেন্দ্র করে দুই দিক থেকে কয়েকটি লেজার লাইট মেরেছিল। আমিসহ আমরা ১১ জন যাত্রী ছিলাম ঐ ট্রলারে। সবাই ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি।’
মতলব উত্তর উপজেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি মাহবুব আলম লাভলু জানান, ‘এই পথে কয়েক বছর আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় আমার কাছে যা ছিল ডাকাতরা আমার সব লুটে নেয়। ঐ সময় ওদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও চরম খারাপ আচরণের কারণে আমি খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।’
নাম প্রকাশ না করা শর্তে ট্রলারের কয়েক জন চালক জানায়, ডাকাতরা যখন আক্রমণ করে, তারা দুই দিক থেকেই আক্রমণ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাত্রীদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। কেউ মালামাল দিতে না চাইলে মারধর করে।
এ বিষয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম বলেন, ধনাগোদা নদীতে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঈদ ও লেংটার মেলাকে সামনে রেখে নদীপথে টহল জোরদার করা হবে। 
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঈদ ও স্থানীয় বৃহৎ লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের যাতায়াত অনেক বাড়বে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন