শবে কদরে হাসপাতালে হামলা করে পাকিস্তান ‘ইসরাইলের মতো’ কাজ করেছে

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ২৭২ Time View

সোমবার শবে কদর পালিত হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশে। সেই রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করেছে আফগানিস্তান। 

এরপরই সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ও নবিন উল হকসহ আফগান ক্রিকেটাররা।

হাসপাতালের ছবি এক্স-এ পোস্ট করে রশিদ খান লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত। সাধারণ মানুষের বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেকোনো হামলাই অপরাধ। রমজানের পবিত্র মাসে এই হত্যালীলা খুবই আতঙ্কের। এতে হিংসা ও ঘৃণা আরও বাড়বে।’

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ চেয়ে রশিদ আরও লিখেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে আফগান ভাইবোনদের পাশে আছি। আমরা নিশ্চয় এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠব।’

হাসপাতালের একটি ভিডিও পোস্ট করে মোহাম্মদ নবি লিখেছেন, ‘কাবুলের হাসপাতালে আশার মৃত্যু ঘটল। যে তরুণেরা চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, তারা পাকিস্তানের সেনা শাসনের বলি হলেন। সন্তানের নাম ধরে মায়েরা চিৎকার করছিলেন। রমজানের ২৮তম দিনে তাদের জীবন চলে গেল।’

এই হামলাকে ইসরাইলি হামলার সঙ্গে তুলনা করে নবিন উল হক লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও পাকিস্তানের সেনা শাসনের মধ্যে আর কী তফাত থাকল।’

গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে। সোমবারও দুই দেশের সীমান্তে গুলি বিনিময় হয়েছে। এতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সৈন্য নিহত হন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাবুলের মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুই হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে বিমান হামলার খবর আসে।

আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হামলা হয়েছে। হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ৪০০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার নিন্দা করে বলেছেন, পাকিস্তান নিজেদের ‘নৃশংস কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যেতে হাসপাতাল ও বেসামরিক ভবনকে নিশানা করছে। এই হামলাকে ‘নীতিবিরুদ্ধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেছেন তিনি।

তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি দাবি করেছেন, কাবুলের কোনো হাসপাতালে হামলা করেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদত দেওয়া সামরিক স্থাপনাগুলিতেই সুনির্দিষ্টভাবে হামলা করা হচ্ছে। আফগানিস্তানের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছে পাকিস্তান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

নারায়ণগঞ্জে সওজের দখলকৃত অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ: নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম

শবে কদরে হাসপাতালে হামলা করে পাকিস্তান ‘ইসরাইলের মতো’ কাজ করেছে

আপলোড সময় : ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

সোমবার শবে কদর পালিত হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশে। সেই রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করেছে আফগানিস্তান। 

এরপরই সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ও নবিন উল হকসহ আফগান ক্রিকেটাররা।

হাসপাতালের ছবি এক্স-এ পোস্ট করে রশিদ খান লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত। সাধারণ মানুষের বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেকোনো হামলাই অপরাধ। রমজানের পবিত্র মাসে এই হত্যালীলা খুবই আতঙ্কের। এতে হিংসা ও ঘৃণা আরও বাড়বে।’

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ চেয়ে রশিদ আরও লিখেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে আফগান ভাইবোনদের পাশে আছি। আমরা নিশ্চয় এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠব।’

হাসপাতালের একটি ভিডিও পোস্ট করে মোহাম্মদ নবি লিখেছেন, ‘কাবুলের হাসপাতালে আশার মৃত্যু ঘটল। যে তরুণেরা চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, তারা পাকিস্তানের সেনা শাসনের বলি হলেন। সন্তানের নাম ধরে মায়েরা চিৎকার করছিলেন। রমজানের ২৮তম দিনে তাদের জীবন চলে গেল।’

এই হামলাকে ইসরাইলি হামলার সঙ্গে তুলনা করে নবিন উল হক লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও পাকিস্তানের সেনা শাসনের মধ্যে আর কী তফাত থাকল।’

গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে। সোমবারও দুই দেশের সীমান্তে গুলি বিনিময় হয়েছে। এতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সৈন্য নিহত হন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাবুলের মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুই হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে বিমান হামলার খবর আসে।

আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হামলা হয়েছে। হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ৪০০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার নিন্দা করে বলেছেন, পাকিস্তান নিজেদের ‘নৃশংস কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যেতে হাসপাতাল ও বেসামরিক ভবনকে নিশানা করছে। এই হামলাকে ‘নীতিবিরুদ্ধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেছেন তিনি।

তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি দাবি করেছেন, কাবুলের কোনো হাসপাতালে হামলা করেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদত দেওয়া সামরিক স্থাপনাগুলিতেই সুনির্দিষ্টভাবে হামলা করা হচ্ছে। আফগানিস্তানের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছে পাকিস্তান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন