ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইটানিকের যাত্রীর মরদেহে থাকা স্বর্ণের ঘড়ি নিলামে সাড়ে ২৮ কোটিতে বিক্রি

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১১:২৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৭২ Time View

টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহত সবচেয়ে ধনী যাত্রীদের একজনের মরদেহ থেকে উদ্ধার করা একটি স্বর্ণের পকেট ঘড়ি নিলামে রেকর্ড ১৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা) দামে বিক্রি হয়েছে।

টাইটানিকের মৃত ওই যাত্রীর নাম ইসিডর স্ট্রাউস। দুর্ঘটনায় তার স্ত্রীও প্রাণ হারিয়েছিলেন। এদিকে নিলাম প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, স্বর্ণের পকেট ঘড়িটি যে দামে বিক্রি হয়েছে তা এই ধরনের জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে রেকর্ড দাম।

রোববার (২৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসিডর স্ট্রাউস এবং তার স্ত্রী আইডা— দু’জনই ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদ্যাম্পটন থেকে নিউইয়র্কগামী টাইটানিকে ভ্রমণের সময় বরফখণ্ডে ধাক্কা খেয়ে ডুবে মারা যান। ওই ঘটনায় ১৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ইসিডর স্ট্রাউসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গে পাওয়া যায় একটি ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের জুলেস জারগেনসেন পকেট ঘড়ি। স্ট্রাউস দম্পতির পরিবার চার প্রজন্ম ধরে ঘড়িটি সংরক্ষণে রেখেছিল। শনিবার ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের ডিভাইজেস শহরের হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন নিলাম ঘরে এটি বিক্রি হয়।

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া ইসিডর স্ট্রাউস ছিলেন একজন মার্কিন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেসিজ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সহ-মালিক। টাইটানিক ডুবির রাতে তার স্ত্রী আইডাকে লাইফবোটে উঠতে বলা হলেও তিনি স্বামীকে ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেছিলেন, স্বামীর পাশে থেকেই মৃত্যুবরণ করবেন। আইডা স্ট্রাউসের মরদেহ আর কখনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে টাইটানিকের লেটারহেডে লেখা আইডা স্ট্রাউসের একটি চিঠি  নিলামে ১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। ওই চিঠিটি তিনি জাহাজে থাকা অবস্থায় পোস্ট করেছিলেন। এছাড়া টাইটানিকের যাত্রী তালিকা বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার পাউন্ডে। আর আরএমএস কারপাথিয়ার নাবিকদের দেওয়া একটি স্বর্ণপদক বিক্রি হয়েছে ৮৬ হাজার পাউন্ডে।

মোট মিলিয়ে টাইটানিক–সম্পর্কিত বিভিন্ন স্মারকের নিলামে প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ড উঠেছে।

নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ঘড়িটির রেকর্ডমূল্য টাইটানিক নিয়ে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী আগ্রহেরই প্রমাণ। তিনি বলেন, “টাইটানিকের প্রতিটি যাত্রী ও নাবিকের নিজস্ব গল্প ছিল, আর ১১৩ বছর পরও সেই গল্পগুলো স্মারকের মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “স্ট্রাউস দম্পতি ছিলেন টাইটানিকের ‘চূড়ান্ত প্রেমের গল্প’। ৪১ বছরের দাম্পত্যের পরও আইডা যে স্বামীকে ছেড়ে যেতে চাননি— ঘড়ির এই রেকর্ডমূল্য সেই সম্মানেরই প্রতিফলন।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

টাইটানিকের যাত্রীর মরদেহে থাকা স্বর্ণের ঘড়ি নিলামে সাড়ে ২৮ কোটিতে বিক্রি

আপলোড সময় : ১১:২৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহত সবচেয়ে ধনী যাত্রীদের একজনের মরদেহ থেকে উদ্ধার করা একটি স্বর্ণের পকেট ঘড়ি নিলামে রেকর্ড ১৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা) দামে বিক্রি হয়েছে।

টাইটানিকের মৃত ওই যাত্রীর নাম ইসিডর স্ট্রাউস। দুর্ঘটনায় তার স্ত্রীও প্রাণ হারিয়েছিলেন। এদিকে নিলাম প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, স্বর্ণের পকেট ঘড়িটি যে দামে বিক্রি হয়েছে তা এই ধরনের জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে রেকর্ড দাম।

রোববার (২৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসিডর স্ট্রাউস এবং তার স্ত্রী আইডা— দু’জনই ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদ্যাম্পটন থেকে নিউইয়র্কগামী টাইটানিকে ভ্রমণের সময় বরফখণ্ডে ধাক্কা খেয়ে ডুবে মারা যান। ওই ঘটনায় ১৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ইসিডর স্ট্রাউসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গে পাওয়া যায় একটি ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের জুলেস জারগেনসেন পকেট ঘড়ি। স্ট্রাউস দম্পতির পরিবার চার প্রজন্ম ধরে ঘড়িটি সংরক্ষণে রেখেছিল। শনিবার ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের ডিভাইজেস শহরের হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন নিলাম ঘরে এটি বিক্রি হয়।

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া ইসিডর স্ট্রাউস ছিলেন একজন মার্কিন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেসিজ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সহ-মালিক। টাইটানিক ডুবির রাতে তার স্ত্রী আইডাকে লাইফবোটে উঠতে বলা হলেও তিনি স্বামীকে ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেছিলেন, স্বামীর পাশে থেকেই মৃত্যুবরণ করবেন। আইডা স্ট্রাউসের মরদেহ আর কখনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে টাইটানিকের লেটারহেডে লেখা আইডা স্ট্রাউসের একটি চিঠি  নিলামে ১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। ওই চিঠিটি তিনি জাহাজে থাকা অবস্থায় পোস্ট করেছিলেন। এছাড়া টাইটানিকের যাত্রী তালিকা বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার পাউন্ডে। আর আরএমএস কারপাথিয়ার নাবিকদের দেওয়া একটি স্বর্ণপদক বিক্রি হয়েছে ৮৬ হাজার পাউন্ডে।

মোট মিলিয়ে টাইটানিক–সম্পর্কিত বিভিন্ন স্মারকের নিলামে প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ড উঠেছে।

নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ঘড়িটির রেকর্ডমূল্য টাইটানিক নিয়ে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী আগ্রহেরই প্রমাণ। তিনি বলেন, “টাইটানিকের প্রতিটি যাত্রী ও নাবিকের নিজস্ব গল্প ছিল, আর ১১৩ বছর পরও সেই গল্পগুলো স্মারকের মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “স্ট্রাউস দম্পতি ছিলেন টাইটানিকের ‘চূড়ান্ত প্রেমের গল্প’। ৪১ বছরের দাম্পত্যের পরও আইডা যে স্বামীকে ছেড়ে যেতে চাননি— ঘড়ির এই রেকর্ডমূল্য সেই সম্মানেরই প্রতিফলন।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন