ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের রেপ্লিকা তৈরির ধুম পড়েছে ব্রাজিলে, এবার মূল ট্রফি জয়ের আশা

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০২:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ২১৩ Time View

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে নিজের কারখানায় বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা তৈরি করেন জারবাস মেনেঘিনি। তার দাবি– এখন পর্যন্ত তিনি প্লাস্টারের তিন হাজার নকল ট্রফি বানিয়েছেন। যা রপ্তানি করা হয় আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আগে আশায় বুক বাধছেন মেনেঘিনি, ব্রাজিলকে এবার আসল ট্রফি জিতে ঘরে ফিরতে দেখার স্বপ্ন তার।

সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়েছিল সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এরপর কেবলই হতাশার গল্প। ২০১৪ আসরে সেমিফাইনালে উঠলে জার্মানির কাছে বিপর্যস্ত (৭-১) হয়ে বিদায়, বাকি চার আসরে পেলে-রোমারিও-রোনালদিনিয়োর উত্তরসূরীদের দৌড় কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমেছে। কিন্তু কার্লো আনচেলত্তির অধীন ব্রাজিল এবার ভালো কিছু করবে এমন প্রত্যাশা দেশটির ফুটবলভক্তদের। একইসঙ্গে নকল বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরিরও ধুম পড়েছে।

ব্রাজিলের ৫৮ বছর বয়সী কারিগর মেনেঘিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে তৎকালীন ব্রাজিল অধিনায়ক ডুঙ্গাকে ট্রফি হাতে তুলতে দেখেই তার এই ব্যবসার ধারণা আসে। মেনেঘিনি বলেন, ‘আমি ডুঙ্গাকে ট্রফি হাতে ধরে থাকতে দেখে বলেছিলাম– আমিও একটি কিনব। কিন্তু কোথাও নকল (রেপ্লিকা) কপি পাওয়া যায়নি। তখনই ধাতব কাজ করতে গিয়ে শেখা, এরপর কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করে নিজেই এটি তৈরির সিদ্ধান্ত নিই।’

মেনেঘেনি হাতে তৈরি প্লাস্টারের বিশ্বকাপ রেপ্লিকা বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপের ১৭টি দেশে রপ্তানি করেন। এসব ট্রফি ছাঁচ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, সোনালি রঙে রাঙানো হয় কিছু, আবার কিছু ট্রফিতে চকচকে ক্রোম ফিনিশ দেওয়া হয়। রিওর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামের কাছে কাজ করা মেনেঘিনি পর্যটক ও স্থানীয় সমর্থকদের কাছেও এসব ট্রফি বিক্রি করেন। তার মতে, ‘একই ছাঁচ থেকে আমি হাজার হাজার ট্রফি তৈরি করি। কিছু রঙ করা হয়, আবার কিছু বিশেষভাবে ক্রোম দিয়ে বানাই– এসব বেশি আকর্ষণীয় লাগে। যখন এগুলোতে চুমু খান, তখন নিজের প্রতিবিম্বও দেখতে পাবেন।’

প্রতি বিশ্বকাপ চক্রেই সমর্থকদের নতুন আশা তৈরি হয়, যাকে ঘিরে বেড়ে যায় নকল বিশ্বকাপ উৎপাদনের হার। ব্রাজিল এবার বিশ্বকাপ জিতবে বলে সেখানকার মানুষের হৃদয়ে আশা জেগেছে বলে জানান মেনেঘিনি, ‘অনেকদিন ধরে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কিন্তু আবারও আমাদের হৃদয়ে আশা জেগেছে।’ ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বিশ্বকাপের আগে সাধারণত ১০০-২০০টি রেপ্লিকা বানালেও, এবার ৬০০ ট্রফি প্রস্তুতের কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলের এই ধাতব কারিগর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন মোনামি

বিশ্বকাপের রেপ্লিকা তৈরির ধুম পড়েছে ব্রাজিলে, এবার মূল ট্রফি জয়ের আশা

আপলোড সময় : ০২:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে নিজের কারখানায় বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা তৈরি করেন জারবাস মেনেঘিনি। তার দাবি– এখন পর্যন্ত তিনি প্লাস্টারের তিন হাজার নকল ট্রফি বানিয়েছেন। যা রপ্তানি করা হয় আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আগে আশায় বুক বাধছেন মেনেঘিনি, ব্রাজিলকে এবার আসল ট্রফি জিতে ঘরে ফিরতে দেখার স্বপ্ন তার।

সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়েছিল সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এরপর কেবলই হতাশার গল্প। ২০১৪ আসরে সেমিফাইনালে উঠলে জার্মানির কাছে বিপর্যস্ত (৭-১) হয়ে বিদায়, বাকি চার আসরে পেলে-রোমারিও-রোনালদিনিয়োর উত্তরসূরীদের দৌড় কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমেছে। কিন্তু কার্লো আনচেলত্তির অধীন ব্রাজিল এবার ভালো কিছু করবে এমন প্রত্যাশা দেশটির ফুটবলভক্তদের। একইসঙ্গে নকল বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরিরও ধুম পড়েছে।

ব্রাজিলের ৫৮ বছর বয়সী কারিগর মেনেঘিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে তৎকালীন ব্রাজিল অধিনায়ক ডুঙ্গাকে ট্রফি হাতে তুলতে দেখেই তার এই ব্যবসার ধারণা আসে। মেনেঘিনি বলেন, ‘আমি ডুঙ্গাকে ট্রফি হাতে ধরে থাকতে দেখে বলেছিলাম– আমিও একটি কিনব। কিন্তু কোথাও নকল (রেপ্লিকা) কপি পাওয়া যায়নি। তখনই ধাতব কাজ করতে গিয়ে শেখা, এরপর কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করে নিজেই এটি তৈরির সিদ্ধান্ত নিই।’

মেনেঘেনি হাতে তৈরি প্লাস্টারের বিশ্বকাপ রেপ্লিকা বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপের ১৭টি দেশে রপ্তানি করেন। এসব ট্রফি ছাঁচ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, সোনালি রঙে রাঙানো হয় কিছু, আবার কিছু ট্রফিতে চকচকে ক্রোম ফিনিশ দেওয়া হয়। রিওর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামের কাছে কাজ করা মেনেঘিনি পর্যটক ও স্থানীয় সমর্থকদের কাছেও এসব ট্রফি বিক্রি করেন। তার মতে, ‘একই ছাঁচ থেকে আমি হাজার হাজার ট্রফি তৈরি করি। কিছু রঙ করা হয়, আবার কিছু বিশেষভাবে ক্রোম দিয়ে বানাই– এসব বেশি আকর্ষণীয় লাগে। যখন এগুলোতে চুমু খান, তখন নিজের প্রতিবিম্বও দেখতে পাবেন।’

প্রতি বিশ্বকাপ চক্রেই সমর্থকদের নতুন আশা তৈরি হয়, যাকে ঘিরে বেড়ে যায় নকল বিশ্বকাপ উৎপাদনের হার। ব্রাজিল এবার বিশ্বকাপ জিতবে বলে সেখানকার মানুষের হৃদয়ে আশা জেগেছে বলে জানান মেনেঘিনি, ‘অনেকদিন ধরে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কিন্তু আবারও আমাদের হৃদয়ে আশা জেগেছে।’ ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বিশ্বকাপের আগে সাধারণত ১০০-২০০টি রেপ্লিকা বানালেও, এবার ৬০০ ট্রফি প্রস্তুতের কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলের এই ধাতব কারিগর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন