ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমরা জিতেছি, তাদের আর কিছুই নেই : ট্রাম্প

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ২১২ Time View

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি যুদ্ধ এত দ্রুত ‘জয়’ পেয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ খানিকটা ‘হতাশ’ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিজয়ী হয়েছি। এ যুদ্ধে ইতোমধ্যে আমাদের জয় এসে গেছে। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছি…. বিমানবাহিনী, অস্ত্রাগার, এবং বিভিন্ন সেনা-স্থাপনায় হামলা করেছি…নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিসি, সিবিসি-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচুর ভুয়া সংবাদ ছড়াচ্ছে; কিন্তু সত্য হলো— আমরা জয় পেয়েছি এবং এত দ্রুত বিজয় আসায় পিট (হেগসেথ) খানিকটা হতাশ হয়েছে।”

“এই মুহূর্তে আমরা (ইরানের সঙ্গে) আলোচনার মধ্যে আছি। আমি আপনাদের বলতে পারি যে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, অবশ্য তারা এখন যে অবস্থায় আছে— সেই অবস্থায় থাকলে কে-ই বা না চাইতো? দেখুন, তারা নৌবাহিনী হারিয়েছে, বিমানবাহিনী নেই, যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এক কথায়, যা ছিল— সব ধ্বংস হয়েছে। তাদের আর কিছুই নেই।”

নিজ বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে কার্যকরভাবে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে যারা ইরানের নেতৃত্বে আছেন, তারা আগের নেতাদের থেকে ‘অনেকটা ভিন্ন’। ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সংলাপের মধ্যে আছেন বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।

এদিকে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

তবে গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানকে ১৫টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে।

সূত্র : এএফপি

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

আমরা জিতেছি, তাদের আর কিছুই নেই : ট্রাম্প

আপলোড সময় : ১২:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি যুদ্ধ এত দ্রুত ‘জয়’ পেয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ খানিকটা ‘হতাশ’ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিজয়ী হয়েছি। এ যুদ্ধে ইতোমধ্যে আমাদের জয় এসে গেছে। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছি…. বিমানবাহিনী, অস্ত্রাগার, এবং বিভিন্ন সেনা-স্থাপনায় হামলা করেছি…নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিসি, সিবিসি-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচুর ভুয়া সংবাদ ছড়াচ্ছে; কিন্তু সত্য হলো— আমরা জয় পেয়েছি এবং এত দ্রুত বিজয় আসায় পিট (হেগসেথ) খানিকটা হতাশ হয়েছে।”

“এই মুহূর্তে আমরা (ইরানের সঙ্গে) আলোচনার মধ্যে আছি। আমি আপনাদের বলতে পারি যে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, অবশ্য তারা এখন যে অবস্থায় আছে— সেই অবস্থায় থাকলে কে-ই বা না চাইতো? দেখুন, তারা নৌবাহিনী হারিয়েছে, বিমানবাহিনী নেই, যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এক কথায়, যা ছিল— সব ধ্বংস হয়েছে। তাদের আর কিছুই নেই।”

নিজ বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে কার্যকরভাবে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে যারা ইরানের নেতৃত্বে আছেন, তারা আগের নেতাদের থেকে ‘অনেকটা ভিন্ন’। ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সংলাপের মধ্যে আছেন বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।

এদিকে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

তবে গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানকে ১৫টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে।

সূত্র : এএফপি

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন