ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদায়বেলায় নিজেদের কত নম্বর দিলেন উপদেষ্টারা?

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২১৮ Time View

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিদায়বেলায় বিভিন্ন উপদেষ্টা নিজেদের মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা ও মূল্যায়ন নিয়ে কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেন। এর মধ্যে তিনজন উপদেষ্টা নিজেদের কাজের মূল্যায়নে ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর দিয়েছেন। তবে কেউই নিজেকে শতভাগ সফল বলে দাবি করেননি। এছাড়া অন্যান্য উপদেষ্টারাও নানা বিষয় তুলে ধরেছেন।

নিজের মূল্যায়নে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেব? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাফল্যের শতাংশ আমি মেবি (সম্ভবত) ৭০ শতাংশ দেব। এটা আমার মূল্যায়ন। ৩০ শতাংশ হয়তো আরও ভালো হতে পারত, কিন্তু হয়নি। হয়নি বিভিন্ন কারণে, নানাবিধ কারণে।

দেশের অস্থির সময়ে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এত বড় প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখেও পুলিশ কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। এমনকি লাঠিচার্জের ক্ষেত্রেও তারা যথেষ্ট সংবরণ দেখিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লাঠি মারলে লোকে বলে পুলিশ লাঠি মারছে, আর রাইফেল তো কথাই নেই; রাইফেল তো বলতে গেলে আনইউজড (অব্যবহৃত)।

বিপ্লবের পর অনেক দেশ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা ও গৃহযুদ্ধের (সিভিল ওয়ার) মধ্যে কাটিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় এবং সুশৃঙ্খল বলেও মনে করেন তিনি।

প্রশাসনিক জটিলতা ও জনবল সংকটে শতভাগ সফল হতে পারিনি : ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে অনেক অর্গান আছে, অনুদান শাখা আছে। অনুদান শাখার মাধ্যমে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়েছে।

নিজের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে আমি শতভাগ সফল হতে পারিনি। প্রশাসনিক কাজ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমরা ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণে ছয়জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে ওয়াকফ প্রশাসনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। ওয়াকফ সংক্রান্ত কাজগুলো বেশ জটিল, বিশেষ করে ভূমিসংক্রান্ত মামলার কারণে হাইকোর্টে বছরের পর বছর শুনানি ঝুলে থাকে।

জ্বালানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন, কোনোটাই পাইনি : জ্বালানি উপদেষ্টা
জ্বালানি খান ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু, এর কোনোটাই তিনি পাননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এ খাতে দৃশ্যমান কিছু না করতে পারার ব্যর্থতা শিকার করে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার কোনোটাই পাননি তিনি। তবে রাজনৈতিক সরকার নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতকে ঢেলে সাজাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফাওজুল কবির খান বলেন, ভর্তুকি দিয়ে কোনো প্রকল্প হাতে নিতে চায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আদানি চুক্তি নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে সমাধান হবে।

বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না : ভূমি উপদেষ্টা
সরকারের ভেতরে অন্যদের সমর্থন না পাওয়ায় ভূমি নিবন্ধন আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না।

ভোগান্তি লাঘবে ভূমি নিবন্ধনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার একটা প্রক্রিয়া ছিল। সেই বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমি যখন বিদায় নিচ্ছি তখন ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমরা সফল হইনি।

কেন সফল হননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তো সমর্থন পেতে হবে, এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের আরও যারা আছেন তাদের সমর্থন লাভ করতে পারিনি।

ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করবেন, আমাকে ভুলে যাবেন : বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ, যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।

তিনি বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

‘সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তায়ালা বরকত দিয়েছেন।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

বিদায়বেলায় নিজেদের কত নম্বর দিলেন উপদেষ্টারা?

আপলোড সময় : ১২:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিদায়বেলায় বিভিন্ন উপদেষ্টা নিজেদের মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা ও মূল্যায়ন নিয়ে কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেন। এর মধ্যে তিনজন উপদেষ্টা নিজেদের কাজের মূল্যায়নে ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর দিয়েছেন। তবে কেউই নিজেকে শতভাগ সফল বলে দাবি করেননি। এছাড়া অন্যান্য উপদেষ্টারাও নানা বিষয় তুলে ধরেছেন।

নিজের মূল্যায়নে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেব? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাফল্যের শতাংশ আমি মেবি (সম্ভবত) ৭০ শতাংশ দেব। এটা আমার মূল্যায়ন। ৩০ শতাংশ হয়তো আরও ভালো হতে পারত, কিন্তু হয়নি। হয়নি বিভিন্ন কারণে, নানাবিধ কারণে।

দেশের অস্থির সময়ে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এত বড় প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখেও পুলিশ কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। এমনকি লাঠিচার্জের ক্ষেত্রেও তারা যথেষ্ট সংবরণ দেখিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লাঠি মারলে লোকে বলে পুলিশ লাঠি মারছে, আর রাইফেল তো কথাই নেই; রাইফেল তো বলতে গেলে আনইউজড (অব্যবহৃত)।

বিপ্লবের পর অনেক দেশ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা ও গৃহযুদ্ধের (সিভিল ওয়ার) মধ্যে কাটিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় এবং সুশৃঙ্খল বলেও মনে করেন তিনি।

প্রশাসনিক জটিলতা ও জনবল সংকটে শতভাগ সফল হতে পারিনি : ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে অনেক অর্গান আছে, অনুদান শাখা আছে। অনুদান শাখার মাধ্যমে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়েছে।

নিজের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে আমি শতভাগ সফল হতে পারিনি। প্রশাসনিক কাজ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমরা ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণে ছয়জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে ওয়াকফ প্রশাসনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। ওয়াকফ সংক্রান্ত কাজগুলো বেশ জটিল, বিশেষ করে ভূমিসংক্রান্ত মামলার কারণে হাইকোর্টে বছরের পর বছর শুনানি ঝুলে থাকে।

জ্বালানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন, কোনোটাই পাইনি : জ্বালানি উপদেষ্টা
জ্বালানি খান ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু, এর কোনোটাই তিনি পাননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এ খাতে দৃশ্যমান কিছু না করতে পারার ব্যর্থতা শিকার করে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার কোনোটাই পাননি তিনি। তবে রাজনৈতিক সরকার নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতকে ঢেলে সাজাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফাওজুল কবির খান বলেন, ভর্তুকি দিয়ে কোনো প্রকল্প হাতে নিতে চায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আদানি চুক্তি নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে সমাধান হবে।

বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না : ভূমি উপদেষ্টা
সরকারের ভেতরে অন্যদের সমর্থন না পাওয়ায় ভূমি নিবন্ধন আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না।

ভোগান্তি লাঘবে ভূমি নিবন্ধনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার একটা প্রক্রিয়া ছিল। সেই বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমি যখন বিদায় নিচ্ছি তখন ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমরা সফল হইনি।

কেন সফল হননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তো সমর্থন পেতে হবে, এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের আরও যারা আছেন তাদের সমর্থন লাভ করতে পারিনি।

ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করবেন, আমাকে ভুলে যাবেন : বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ, যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।

তিনি বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

‘সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তায়ালা বরকত দিয়েছেন।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন