ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে হাসিনার অবস্থান নিয়ে জয়শঙ্কর বললেন— সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৭:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩২৫ Time View

ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে অবস্থান করা নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এডিটর-ইন-চিফের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং যেসব ‘পরিস্থিতি’ তাকে ভারতে নিয়ে এসেছে, সেগুলোই এখন তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ওই সময় ব্যাপক সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

গত মাসে ঢাকার বিশেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে সরকারি দমন-পীড়নের অভিযোগে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। তার অনুপস্থিতিতেই আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে।

শনিবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলেন এস জয়শঙ্কর।

এ সময় শেখ হাসিনা কি ‌‌‘যতদিন খুশি’ ভারতে অবস্থান করতে পারবেন? এমন এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘‘এটা তো ভিন্ন বিষয়, তাই না? তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন এবং আমার মনে হয় সেই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই এখন তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।’’

• ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

পরে ওই আলোচনায় নয়াদিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রতিবেশী বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ভারতের অবস্থানের ওপর জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যা শুনেছি তা হলো; বাংলাদেশে, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায়, তাদের আগের নির্বাচনগুলো কীভাবে হয়েছে; সে বিষয়ে আপত্তি ছিল। এখন, যদি সমস্যাটি নির্বাচন নিয়ে হয়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা।’’

ভারত-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত তার প্রতিবেশীর জন্য গণতান্ত্রিক পথই কামনা করে। তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে, আমরা বাংলাদেশের মঙ্গলই চাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

তিনি বলেন, ‘‘আমি বেশ আশাবাদী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এবং আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

ভারতে হাসিনার অবস্থান নিয়ে জয়শঙ্কর বললেন— সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে

আপলোড সময় : ০৭:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে অবস্থান করা নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এডিটর-ইন-চিফের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং যেসব ‘পরিস্থিতি’ তাকে ভারতে নিয়ে এসেছে, সেগুলোই এখন তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ওই সময় ব্যাপক সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

গত মাসে ঢাকার বিশেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে সরকারি দমন-পীড়নের অভিযোগে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। তার অনুপস্থিতিতেই আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে।

শনিবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলেন এস জয়শঙ্কর।

এ সময় শেখ হাসিনা কি ‌‌‘যতদিন খুশি’ ভারতে অবস্থান করতে পারবেন? এমন এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘‘এটা তো ভিন্ন বিষয়, তাই না? তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন এবং আমার মনে হয় সেই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই এখন তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।’’

• ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

পরে ওই আলোচনায় নয়াদিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রতিবেশী বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ভারতের অবস্থানের ওপর জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যা শুনেছি তা হলো; বাংলাদেশে, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায়, তাদের আগের নির্বাচনগুলো কীভাবে হয়েছে; সে বিষয়ে আপত্তি ছিল। এখন, যদি সমস্যাটি নির্বাচন নিয়ে হয়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা।’’

ভারত-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত তার প্রতিবেশীর জন্য গণতান্ত্রিক পথই কামনা করে। তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে, আমরা বাংলাদেশের মঙ্গলই চাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

তিনি বলেন, ‘‘আমি বেশ আশাবাদী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এবং আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন