ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমজানে আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১০:১৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০৯ Time View

আসন্ন রমজান মাসে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। আনাদোলু এজেন্সিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি।

এক সাক্ষাৎকারে আনাদোলুকে শেখ একরিমা সাবরি বলেছেন, “ইসলাম ধর্মের পবিত্র মাস রমজান। মুসলিমরা হযরত মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে রমজান মাসকে স্বাগত জানায়; কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে দখলদার শক্তি আসন্ন রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে আসতে ইচ্ছুক মুসলিমদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তাদের এই পদক্ষেপ দুঃখজনক।”

ইসরায়েলি পুলিশ ইতোমধ্যে আল-আকসা চত্বরের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে উল্লেখ করে আনাদোলু এজেন্সিকে শেখ একরিমা সাবরি বলেন, “গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক ডজন মুসলিম তরুণকে আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলের পুলিশসূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে সামনের রমজান মাসে এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হবে।”

পৃথক এক প্রতিবেদনে একই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজও। দৈনিকটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজানে আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেড ইসরায়েলি পুলিশের অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেম শাখার শীর্ষ কমান্ডারের পদে আসার পর থেকেই এ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সার্বভৌম এই ভূখণ্ডটির জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বেন-গিভির সম্পর্কে বলা হয়েছে, “জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর গতিবিধি দেখে মনে হচ্ছে যে আগুন জ্বালানোর জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।”

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিমদের নামাজের কেবলা ছিল। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে হযরত মুহম্মদ (স.) মেরাজে (আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ) যাওয়ার আগে এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছিলেন। গুরুত্বের বিচারে মুসলিমদের কাছে মক্কার কাবা এবং মদিনার মসজিদে নববির পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে আল-আকসা মসজিদ। আল আকসা মসজিদের কাছাকাছি ইহুদিদের পবিত্র তীর্থস্থান টেম্পল মাউন্ট অবস্থিত।

১৯৫৭ সালের আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। সেই থেকে আল-আকসা মসজিদ ইসরায়েলের দখলে আছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

ফতুল্লায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও ৮ লক্ষ টাকাসহ ২ ডাকাত গ্রেপ্তার; পলাতক ৭/৮ জন

রমজানে আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

আপলোড সময় : ১০:১৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন রমজান মাসে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। আনাদোলু এজেন্সিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি।

এক সাক্ষাৎকারে আনাদোলুকে শেখ একরিমা সাবরি বলেছেন, “ইসলাম ধর্মের পবিত্র মাস রমজান। মুসলিমরা হযরত মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে রমজান মাসকে স্বাগত জানায়; কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে দখলদার শক্তি আসন্ন রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে আসতে ইচ্ছুক মুসলিমদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তাদের এই পদক্ষেপ দুঃখজনক।”

ইসরায়েলি পুলিশ ইতোমধ্যে আল-আকসা চত্বরের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে উল্লেখ করে আনাদোলু এজেন্সিকে শেখ একরিমা সাবরি বলেন, “গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক ডজন মুসলিম তরুণকে আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলের পুলিশসূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে সামনের রমজান মাসে এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হবে।”

পৃথক এক প্রতিবেদনে একই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজও। দৈনিকটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজানে আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেড ইসরায়েলি পুলিশের অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেম শাখার শীর্ষ কমান্ডারের পদে আসার পর থেকেই এ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সার্বভৌম এই ভূখণ্ডটির জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বেন-গিভির সম্পর্কে বলা হয়েছে, “জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর গতিবিধি দেখে মনে হচ্ছে যে আগুন জ্বালানোর জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।”

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিমদের নামাজের কেবলা ছিল। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে হযরত মুহম্মদ (স.) মেরাজে (আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ) যাওয়ার আগে এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছিলেন। গুরুত্বের বিচারে মুসলিমদের কাছে মক্কার কাবা এবং মদিনার মসজিদে নববির পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে আল-আকসা মসজিদ। আল আকসা মসজিদের কাছাকাছি ইহুদিদের পবিত্র তীর্থস্থান টেম্পল মাউন্ট অবস্থিত।

১৯৫৭ সালের আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। সেই থেকে আল-আকসা মসজিদ ইসরায়েলের দখলে আছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন