নিজস্ব প্রতিবেদক: নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসিতে নিজেদের অন্যায় আবদার চাপিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারীর মূল হোতা আদনান ইমাম ও তার দোসররা। ফলে কোম্পানিটিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পত্র পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে গত ২৯ জানুয়ারি পাঠিয়েছেন কোম্পানির বর্তমান চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ।
অভিযোগ পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন বহু মামলার পলাতক আসামী ও নাভানা ফার্মার সাবেক পরিচালক আদনান ইমাম ও তার বোন জাহারা রসুল, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান ও তার স্ত্রী ইমরানা জামান। পরবর্তীতে তৎকালিন পরিচালনা পর্ষদের সভায় তা গৃহীত হয়। পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার পর তা যথাযথভাবে বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসইকে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি কোম্পানির ওয়েব সাইটে তা মেটেরিয়াল ইনফরমেশন সেকশনে প্রকাশ করা হয়। তাদের পদত্যাগের পর ইতিমধ্যে দুইটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গত ২৮ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় কোম্পানিটির হাইব্রিড পদ্ধতিতে বোর্ড সভা চলাকালিন জুম লিংকের মাধ্যমে তারা সভায় ঢুকে পড়েন।
অভিযোগ পত্রে সাইকা মাজে আরও উল্লেখ করেন, সভায় কোম্পানির বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক সাইকা মাজেদ অন্যান্য স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়ে সভাটি পরিচালনা করছিলেন। সাইকা মাজেদ তাদেরকে সভা থেকে বের হয়ে যেতে বার বার অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা রাজী না হওয়ায় তিনি আইটি টিমের সহায়তায় তাদেরকে সভা থেকে বের করে দিতে চাইলে কোম্পানির বর্তমান ডিএমডি ডা. সাঈদ আহমেদ তাকে বাধা দেন। পাশাপাশি ওই পদত্যাগকারী, পলাতক আসামী, দুস্কৃতিকারীদের সাথে মিলে সাইকা মাজেদ ও স্বতন্ত্র পলিচালকদের হুমকি ধামকি দিতে থাকেন সাঈদ আহমেদ। ওই পরিস্থিতিতে এজেন্ডাভূক্ত মাত্র চারটি (দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব, ২০২৬ সালের বাজেট, ফ্যাক্টরীতে জেনেরিক প্রজেক্ট ও শ্রীলংকাতে সাবসিডিয়ারী/লিয়াজো অফিস) আলোচনা শেষ করে সাইকা মাজেদ অন্যান্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা সভাস্থল ত্যাগ করেন।
কোম্পানি সচিব লরেন্স শ্যামল মল্লিকের ব্যবহৃত অফিসিয়াল ল্যাপটম, মোবাইল ও ইমেইল আইডি টেকনিক্যাল কারণ উল্লেখ করে সাঈদ আহমেদ তার আওতায় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত সেগুলো ফেরত তিনি দেননি বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ল্যাপটম, ফোন বা ইমেইল ব্যবহার করে অন্য কাউকে দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করতে পারে সাঈদ আহমেদ, এমনটাই ধারণা পোষণ করেছেন কোম্পানিটির বর্তমান চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ ও অন্যান্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা। এছাড়াও সাইকা মাজেদ ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের অফিসে ঢুকার ক্ষেত্রে সাঈদ আহমেদ বাধা করছেন বলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ কোম্পানির ডিএমডি ডাঃ সাঈদ আহমেদ, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ও আমিনুল নামের এক কর্মকর্তাকে গুলশানের কর্পোরেট অফিস থেকে আটক করে নিয়ে গেছে।
অনলাইন ডেক্স 




















